৪ পৌষ ১৪২৪
 
শিরোনামঃ
জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক টিপুর ভাই আজিম মোল্লা গুলিবিদ্ধ : আশংকাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি   |  পাবনার কৃতি সন্তান সাইফুল আলম স্বপন চৌধুরী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক পদে দ্বিতীয় বারের মত নির্বাচিত   |  সুজানগর উপজেলা জাতীয়তাবাদী বন্ধুদলের কার্যকারী নির্বাহী কমিটির অনুমোদন   |  বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইঞ্জিঃ আব্দুল আলীমের ছবি সংবলিত বিলবোর্ড ভাংচুরের প্রতিবাদে ভাঙ্গুড়ায় বিক্ষোভ   |   বিপুল পরিমান মাদক দ্রব্য সহ এক মাদক বব্যসায়ী গ্রেফতার  |  অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকের দুই সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধান কমিটি গঠন  |  সাঁথিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যাক্তির মৃত্যু   |  ঈশ্বরদীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ পালিত   |  সুজানগরে দ্বিতীয় শ্রেণীর স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক পৌঢ় আটক  |  খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে---- জেলা প্রশাসক   |  ঈশ্বরদীতে বিদেশী পিস্তল, রিভলবার, বিপুল পরিমান গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্যসহ দুই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেফতার  |  সাঁথিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ছাত্রলীগ সভাপতিসহ আহত-৩  |  চাটমোহর রেলস্টেশনের বুকিং সহকারি মাতাল অবস্থায় গাঁজা সহ আটক  |  ভাঙ্গুড়া উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ ৪ শিবির নেতা-কর্মী গ্রেফতার  |  নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার   |  সুজানগরে ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল স্কুল ছাত্রী কেয়া  |  সাংবাদিক এবিএম ফজলুর রহমান পাবনা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক নির্বাচিত  |  পাবনার সাঁথিযায় অবৈধ দোকান ঘর উচ্ছেদ :সরকারি জমি উদ্ধার  |  এডভোকেট রবিউল করিম রবি বিচারপতি সৈয়দ আমীর আলী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনিত  |  রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধের প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ  |  

সর্বশেষ

একাত্তরের স্মৃতি চারণ... রাজাকারের হাতে বন্দি নিশি যাপন

Mar 20, 2017, 10:37:11 PM

একাত্তরের স্মৃতি চারণ... রাজাকারের হাতে বন্দি নিশি যাপন

এবাদত আলী:: চাটমোহর থানার দিলালপুরের টালক প্রামাণিকের বাড়ির মুক্তিবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প হতে ঈশ্বরদী থানার বক্তারপুর ক্যাম্পে যাবার জন্য নির্দেশ আসে। সে মোতাবেক কমান্ডার ওয়াসেফ আলীর সঙ্গে ছয় দাঁড়ের নৌকা নিয়ে উজান-ভাটি বেয়ে আমরা বক্তারপুর মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে গিয়ে পৌছলাম। আপাতত দিন কয়েক কোন কাজ নেই। সামনে আমাদের কাজ হলো পাবনা ঈশ্বরদী রোডের কয়েকটি ব্রিজ উড়িয়ে দেওয়া। এজন্য প্রয়োজন রেকি করা। কমান্ডার আমাকে দায়িত্ব দিলেন মনোহরপুর ব্রিজ অর্থাৎ মনোহরপুর বড়ো শাকো উড়িয়ে দিতে গেলে কোন খানে মাইন সেট করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধারা কোন কোনস্থানে কিভাবে পজিশনে থাকবে ইত্যাদি বিষয়ে পূনাঙ্গ একটি নকশা তৈরি করে কয়েক দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার। তখন পুরা বর্ষাকাল। চারদিকে অথৈই পানি। তাই সকাল বেলা আমাকে দাপুনিয়া পর্যন্ত ডিঙি নৌকাতে করে পাঠানো হলো। রেকি করতে হলে প্রথমে আমাকে বাড়ি যেতে হবে। আমি দাপুনিয়া হতে ছয়ঘরিয়ার দিকে পায়ে হেঁটে রওনা হলাম। ভেবেছিলাম হোটরা গ্রাম হয়ে শুকনো পথ ধরে বাড়ি পৌঁছতে পারবো। কিন্তু কিছুদুর গিয়ে শুনতে পেলাম যে, হোটরা গ্রামের গোকুল বিশ্বাসকে রাতের বেলা নকশালেরা গুলি করে হত্যা করেছে। সুতরাং ঐ গ্রাম দিয়ে আমার যাওয়া কোনমতেই ঠিক হবেনা। তাই আরো উত্তর দিকে অর্থাৎ তবলপুর গ্রাম সোজাসুজি আমি রওনা হলাম। 

কিন্তু কিছুদুর যাবার পরই শুধু পানি আর পানি। কোথাও হাঁটু পানি কোথাও কোমর পানি আবার কোথাও গলা পানি। আমি পানির মধ্য দিয়েই পথ চলা অব্যাহত রাখলাম। এছাড়া আর কোন উপায় নেই। যেস্থান থেকে এসেছি সেখানে ফিরে যেতে হলেও পানি। কি আর করা একটি বাড়িতে উঠে কিছু সময় জিরিয়ে নিলাম। সেখান থেকে বহু কষ্টে নিজ বাড়ি পৌঁছলাম। কিন্তু আমার বাড়ি পৌঁছানো ঠিক হলোনা। কারণ তখন নকশালেরা গ্রাম ছেয়ে ফেলেছে। যারা আমার বন্ধু বান্ধব যারা আমার নিকটতম ব্যক্তি তারা প্রায় সকলেই নকশালের দলে মিশে গেছে। আমার জীবনের নিরাপত্তা আর আমার বাড়িতে নেই। কি আর করা এসে যখন পড়েছি তখন যে কোন পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। খুব সাবধানেই থাকতে হবে। আবার বেশি দেরিও করা যাবেনা। রেকি সমাপ্ত করে কমান্ডারের নিকট রিপোর্ট দিতে হবে। 

সুযোগ বুঝে বিকালের দিকে মনোহরপুর রওনা হলাম। মনোহরপুর ব্রিজ লোকে যার নাম বলে বড়ো শাকো। সেই বড়ো শাকো মাইন দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার রেকি করতে আমি যখন রওনা হয়েছি আমার ছোট ভগ্নিপতি বলে আমি আপনার সঙ্গে মনোহরপুর যাবো। বাড়িতে থাকা ওর মোটেই নিরাপদ নয় তাই ওকেও সঙ্গে নিলাম। কিন্তু আমার উদ্দেশ্য তাকে জানতে বা বুঝতে দিলামনা। মনোহরপুর বড়ো শাকোর পূর্ব পাশেই আমার খালাতো বোনের বাড়ি। ১৯৭১ সালের ১২ অক্টোবর আমার জোমেলা বুজির বাড়ি গিয়ে উঠলাম। অনেকদিন পর বোনের বাড়ি যাওয়ায় বোন ও ভগ্নিপতি জমিন উদ্দিন দারুন খুশি। আমাদের জন্য একটি তাগড়া মোরগ জবাই করা হলো। আমার বোন আমাদের আপ্যায়নের জন্য চাউলের আটার রুটি বানোলো। মাগরিবের নামাজ পড়ার পরপরই আমরা খেতে বসলাম। এরই মধ্যে ব্রিজ প্রহরারত রাজাকাররা আমাদের অবস্থান জেনে গেছে। আমাদের কাছে একটি ছোট্ট রেডিও ছিলো তারা তার খোঁজ ও নিয়ে ফেলেছে। দুজন রাজাকার এসে বাহানা করলো যে আজ প্রেসিডেন্টের ভাষণ আছে তাই রেডিও সঙ্গে নিয়ে আমাদের সাথে এখুনি চলেন। আমি বল্লাম খাওয়া শেষ হোক তারপর যাওয়া যাবে। আর যদি প্রেসিডেন্টের ভাষণ শুনতে চান তবে রেডিওটা নিয়ে যান। একজন সঙ্গে সঙ্গে বল্লো শালা ওতো পকোর পকোর করে ক্যানরে আমরা আসপের কচ্ছি আসেন ওতো কথা কেন? 

আমি তৎক্ষনাৎ পালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম কিন্তু তাতে ফলাফল শুভ হবেনা। ওরা আমার বোনের বাড়ি ঘর জালিয়ে দেবে কিংবা গুলি করে সকলকে হত্যা করবে। তাই ওদের কথা মেনে নিয়ে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। আমাদেরকে ওদের সঙ্গে যেতেই হলো। আমি, আমার আপন ভগ্নিপতি মোকবুল আর খালাতো ভগ্নিপতি জমিনকে ওরা নিয়ে গেল। আমরা শাকোর উপর পৌঁছা মাত্র আমাদেরকে পিঠমোড়া করে বেঁধে ফেল্ল। আমরা এর জন্য কোভাবেই প্রস্তুত ছিলামনা। আমি ওদেরকে আমাদেরকে ছেড়ে দিতে বল্লাম। রাজাকারদের মধ্যে কাশেম, বিল্লাল ও বুলবন আমার পূর্ব পরিচিত। আমি যখন বাঙ্গাবাড়িয়া মাদরাসার ছাত্র ছিলাম তখন থেকেই তাদের সঙ্গে জানা শোনা।। সেকারনে তাদের কাছে অনুরোধ জানালাম আমাদেরকে ছেড়ে দিবার জন্য। বুলবন রাজাকার বলে শালা তোমাকে আমরা হাড়ে হাড়ে চিনি। তুমি ছিলে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্র ও ছাত্র লীগের বড় নেতা। তুমিইতো শালা মনোহরপুর টাওয়ার ধংসের নেতৃত্ব দিয়েছিলে। আমি সাহস সঞ্চয় করে বলি তোমরা তো আমার পরিচিত আমার সম্পর্কে তোমরা অনেক কিছুই জানো। আমাদেরকে খামাখা বেইজ্জতি করছো তোমরা। অপরিচিত একজন রাজাকার বলে শালা ওতো পকোর পকোর করতেছে ক্যা কাসেম ভাই। গোটা দুই লাত্থি কষে দেননা ক্যা উয়ের পাছার পর। তাহলি সব ঠিক হয়ে যাবিনি। লজ্জায় আমার মরে যেতে ইচ্ছা করছিলো। কিন্তু উপায় কি। অপরজন ছুটে এসে ৩০৩ রাইফেলের নল আমার গলার সঙ্গে ঠেসে ধরলো। তখন মনে হলো জোড়া পায়ে ওর মুখের উপর একটা লাথি কষে দেই। আমি হিসাব করে দেখলাম আমি ইচ্ছা করলে ৫জন রাজাকারকেই কুপকাত করে দিতে পারি। কিন্তু আমার ভগ্নিপতিগণকেতো আর ওরা জীবিত রাখবেনা। তাই মুখ বুঁজে সব কিছুই হজম করতে লাগলাম। আমি সাহস সঞ্চয় করে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বল্লাম আরে ভাই আমাদেরকে হত্যা করা সেতো সামান্য সময়ের ব্যাপার। তোমরা যদি নাই ছাড়ো গুলি করে দাও। কিন্তু এশার নামাজ পড়ারতো সুযোগ দিবে। নামাজের কথা বলতেই ওরা যেন একটু নরম হলো। বল্ল একজন একজন করে নামাজ পড়তে পারো। ঠিক আছে হাতের বাঁধন খুলে দাও। কি মনে ভেবে আমাদের হাতের বাঁধন খুলে দেওয়া হলো।ওজু করানোর জন্য রাইফেল তাক করে ধরে  শাকোর নিচে নিয়ে ওজুর ব্যবস্থা করে দিলো। আমরা পাকা রাস্তার উপর এশা’র  নামাজ আদায় করলাম একেক জন একেক জায়গায়। ওরা রাইফেল ধরে আছে। নামাজ শেষে আল্লাহর দরবারে প্রাণ খুলে  শেষ মোনাজাত করি। জীবনের শেষ মুহুর্ত এটা। এ চরম লগ্ন। একথা ভোলা যায়না। মানুষের জীবনের প্রতি যে কত মায়া তা মৃত্যুর মুখোমুখি না হলে কিছুতেই বুঝা সম্ভব নয়। বার বার আমার নবজাত শিশুর মুখ আমার মানসপটে ভেসে ওঠে। আমার তখনকার ভাবনা: আমার মৃত্যু হবে, রাজাকার কিংবা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে। ওরা হয়তো গুলি করে মারবে নয়তো ব্যায়োনেটের আঘাতে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করবে। হত্যা করার পর সে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেবে কিংবা যেখানে সেখানে ফেলে দিবে। হয়তো শিয়াল কুকুর কিংবা শকুনেরা তা তৃপ্তি সহকারে ভক্ষণ করবে। আমাদের মৃত্যু কেমন অবস্থায় হবে তা কেউ জানতে বা অনুমান করতে পারবেনা। মা বাবা স্ত্রী পরিজন বুক চাপড়ে কেঁদে কেঁদে ফিরবে।  তবে একথাও ঠিক যে, দেশের সাধারণ মানুষ আমাদের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। তখনকার অনুভুতি এমন যে, এ দেশ একদিন স্বাধীন হবে। সেদিন শহীদের কাতারে আমাদের নামও স্বর্নাক্ষরে  লিপিবদ্ধ হবে। তাই দেশের জন্য প্রাণ দিতে তখন প্রস্তুত। 

কিন্তু জীবনের মায়া বড়ই কঠিন। পরক্ষনেই বাঁচার তাগিদে পথ খুজতে থাকি। মনোহরপুর বড় শাকোর নিচে তখন অথৈ পানি। কলকল রবে ¯্রােত বেয়ে চলেছে। জোসনার আলো পড়ে নদীর পানি চিক চিক করছে। পাঁচজন রাজাকারের মধ্যে তখন তিনজন জেগে আছে। বাকি দুজন রাইফেল পাশে রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে। নিজের ওজন যাচাই করার বাসনা মনে জাগে। আচমকা ওদেরকে আঘাত করে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে ¯্রেেতর টানে ভাটির দিকে চলে যাওয়া যায়। কিন্তু আমার ভগ্নিপতিদের কারণে তা সম্ভব নয়। ঠিক এমন সময়  পিছন দিক থেকে একটি জিপ গাড়ি এসে ব্রিজের উপর থেমে গেল।

একজন রাজাকার আমাকে পিঠে রাইফেলের বাঁট দিয়ে আঘাত করতেই জিপ থেকে একজন আর্মি অফিসার নেমে ঠাওরাও। মত মারডালো বলে চিৎকার করে  উঠলো। আমি দাঁড়িয়ে তাঁকে বিনীতভাবে সালাম জানালে তিনি সালামের উত্তর নিলেন এবং ঐ রাজাকারকে বললেন কেয়া বাত? ইয়ে আদমী কোন হায়? তখন রাজাকাররা বললো, স্যার ইয়ে লোগ মুক্তিফৌজ হায়। তখন আর্মি অফিসার বললো,ঠিক হায় ইছকো মত মারডালো। সুবেহ কি ওয়াক্ত হামারা ক্যাম্পমে  ভেজ দিয়ো। বাত ঠিক হায়? বলে জিপ নিয়ে ঈশ্বরদীর দিকে চলো গেল। তখন রাজাকাররা ববলাবলি  করতে লাগলো হারামজাদা আমাদের হাত থেকে বাঁচলেও সকালে যখন আর্মি ক্যাম্পে যাবে তখন বুঝবে কেমন হালত হয়। ঘন্টা খানেক পর সেই জিপ পুনরায় পাবনা শহরের দিকে চলে গেল।রাজাকারদের হাতে বন্দি নিশি যাপনের পর দেখতে দেখতে ভোর হয়ে গেল। পাবনা থেকে একটি খালি ট্রাক ঈশ্বরদীর দিকে চলে গেল। ঐ ট্রাকে করে ব্রিজ প্রহরারত রাজাকারদেরকে পর্যায়ক্রমে তুলে পাবনা ক্যাম্পে নিয়ে যাবে। এদিকে রাজাকাররা সকলেই একজন একজন করে  ফজরের নামাজ আদায় করলো। আমরা নামাজ আদায় করতে চাইলে সে সুযোগ আর দেওয়া হলোনা। ফিরতি ট্রাক এসে গেল। রাজাকাররা আমাদেরকে ট্রাকে উঠতে বললো। এমনসময় ব্রিজের পাশের বাড়ির শমসের মওলানা ও তার প্রতিবেশি  শাহজাহান আলী বাড়ির বাইরে এসে আমাকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে শমসের মওলানাকে ঘটনা খুলে বলি। তিনি তখন রাজাকারদেরকে বলেন, তোমরা এদেরকে কেন নিয়ে যাচ্ছ? রাজাকাররা তাঁর পূর্ব পরিচিত, তাই বলে যে, এরাতো মুক্তিফৌজ, তাই নিয়ে যাচ্ছি। তখন তিনি দৌড়ে গিয়ে ট্রাকের সামনের সিটে বসা আর্মি অফিসারকে বলেন যে, এরা আমার খালাতো ভাই। এদেরকে কেন নিয়ে যা্েছন। প্রতিদিন সকালে রাজাকার উঠিয়ে নেওয়ার সুবাদে আর্মি অফিসার তার পরিচিত তাই তিনি বেঁকে বসেন এরা আমার ভাই। এদেরকে ছেড়ে দেন। আর্মি অফিসার উর্দুতে তার সাথে অনেক কথা কাটাকাটি করে। তিনিও নাছোড় বান্দা। শমশের মওলানা এবং শাহজাহান দু’জনেই বলেন যে, এরা আমাদের আত্মীয়। এরা নির্দোষ। তাদের এহেন পীড়াপিড়িতে রাজাকাররাও অনেকটা নরম। আমি তখন মনে মনে আল্লাহকে ডাকছি ্র যাক, এক পর্যায়ে তারা আমাদেরকে ছেড়ে দিল। 

নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ছাড়া পাবার পর আল্লাহর শুকর গোজার করলাম। শমসের মোওলানা ও শাহজাহান ভাই আমাদের কাছে আরজি দিলেন যেন মনোহরপুরের ব্রিজ বা বড়ো শাকোর যেন কোন ক্ষতি না হয়। 

আমি তাদেরকে আস্বস্থ করে সোজা গোপালপুর গ্রামে চলে যাই এবং সেখান থেকে নিজ বাড়িতে পৌঁছি। পরদিন বক্তারপুরে গিয়ে কমান্ডারের নিকট বিস্তারিত রিপোর্ট করলাম এবং সেই সঙ্গে  ওয়াদার কথাও তাকে জানাই। তিনি বলেন, আপনার ওয়াদার কারণে আমরা সেখানে কোন অপারেশন চালাবোনা। 

(লেখক: বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও কলামিস্ট)।

সদস্য পাবনা প্রেসক্লাব, পাবনা।

 

 
 
 
পাবনা নিউজ২৪.কম
আব্দুল হামিদ রোড, পাবনা-৬৬০০
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোন ০১৭৩৩৪৮৮৯৯৪ / ০১৭১১০১৬০১৮