৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
 
শিরোনামঃ
জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক টিপুর ভাই আজিম মোল্লা গুলিবিদ্ধ : আশংকাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি   |  পাবনার কৃতি সন্তান সাইফুল আলম স্বপন চৌধুরী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক পদে দ্বিতীয় বারের মত নির্বাচিত   |  সুজানগর উপজেলা জাতীয়তাবাদী বন্ধুদলের কার্যকারী নির্বাহী কমিটির অনুমোদন   |  বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইঞ্জিঃ আব্দুল আলীমের ছবি সংবলিত বিলবোর্ড ভাংচুরের প্রতিবাদে ভাঙ্গুড়ায় বিক্ষোভ   |   বিপুল পরিমান মাদক দ্রব্য সহ এক মাদক বব্যসায়ী গ্রেফতার  |  অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকের দুই সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধান কমিটি গঠন  |  সাঁথিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যাক্তির মৃত্যু   |  ঈশ্বরদীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ পালিত   |  সুজানগরে দ্বিতীয় শ্রেণীর স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক পৌঢ় আটক  |  খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে---- জেলা প্রশাসক   |  ঈশ্বরদীতে বিদেশী পিস্তল, রিভলবার, বিপুল পরিমান গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্যসহ দুই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেফতার  |  সাঁথিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ছাত্রলীগ সভাপতিসহ আহত-৩  |  চাটমোহর রেলস্টেশনের বুকিং সহকারি মাতাল অবস্থায় গাঁজা সহ আটক  |  ভাঙ্গুড়া উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ ৪ শিবির নেতা-কর্মী গ্রেফতার  |  নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার   |  সুজানগরে ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল স্কুল ছাত্রী কেয়া  |  সাংবাদিক এবিএম ফজলুর রহমান পাবনা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক নির্বাচিত  |  পাবনার সাঁথিযায় অবৈধ দোকান ঘর উচ্ছেদ :সরকারি জমি উদ্ধার  |  এডভোকেট রবিউল করিম রবি বিচারপতি সৈয়দ আমীর আলী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনিত  |  রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধের প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ  |  

সর্বশেষ

অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নূরুন্নবী - একজন শিক্ষক, একজন সামগ্রিক অভিভাবক

Aug 4, 2017, 7:22:37 PM

অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নূরুন্নবী - একজন শিক্ষক, একজন সামগ্রিক অভিভাবক

রশীদ-উন- নবী পাপ্পু : মাঠের পর মাঠ। তার পরই ছায়া ঘেরা এক আদর্শ গ্রাম-আমাদের কাজীপুর। আতাইকুলা থেকে একটু ভেতরে। বিদ্যুতের ছোয়া তখনো লাগেনি গ্রামে। রাস্তা বলতে কাদা মাখা মেঠো পথ। দুপাশে বট বেতসের ঝার। বাড়ীর একপাশ দিয়ে একে বেকে ছুটে চলেছে ছোট এক নালা। ভরা বর্ষায় খরস্রোতা রূপ নেয় তা। ডাক্তারের বালাই নেই। কবিরাজের ঝারফুক আর শহরে বাস করা পল্লী ডাক্তারের ঘরে কিছু দিন কম্পাউন্ডারগিরি করা কিছু মানুষ জনের দাগ কাটা বোতলে সিরাপ চিকিৎসা।আছে গুটি কয়েক অভিঞ্জ দাঈমা। এই আমাদের গা। এই গ্রামেই কোন এক বর্ষার রিমঝিম অমায়িক সাঝে শিক্ষক বাবার ঘর জুরে একজন মুহাম্মদ নূরূন্নবীর জন্ম, একটি প্রতিষ্ঠানের আত্মপ্রকাশ। 

খুব দুরন্ত এক পুতুলরূপি নূরুন্নবীকে নিয়ে বাবা তাসাম উদ্দিন শেখের আনন্দের সীমা নেই। কখনো সখ ছেলেকে ডাক্তার বানাবেন, কখনো বা বানাবেন ডাক সাইটে আমলা। কত্তো না স্বপ্ন দুচোখ জুড়ে!

দুরন্ত স্বভাবের ছেলেকে বড় করতে বাবাকে বেশ বেগ পেতে হলো। কেবল হাটতে শেখা ছেলেকে একদিন কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। মা মজিরন নেছা বেগুন ভর্তা করতে যান ছেলেকে রেখে। এসে দেখেন সাত সকালে ছেলে নিখোজ। ঘরের পাশে খরস্রোতা নালাটিতে হঠাৎই নজর যায় মায়ের। পানিতে কারো দাপাদাপির চিহ্ন! মা এর বুঝতে দেরি হয়নি যে ওখানেই তার “নূরু” বিপদে পরেছে। মায়ের চিৎকারে সবাই ছুটে আসে। প্রতিবেশীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বেচে ওঠেন কাজীপুর বাসীর আদোরের “নূরু”। 

নতুন করে জীবন পাওয়া এ মানুষটির এর পর আস্তে আস্তে বেড়ে ওঠা। শিক্ষক বাবার দান করা জমিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়া প্রাইমারী স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণ। তখনো দুরন্তপনা ছোটেনি তার। স্কুলে মন যে একদম নেই । 

এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় মা অভাবনীয় উদ্যোগ গ্রহন করলেন। মায়ের পুরোনো নরম শাড়ী দিয়ে পা টা বেধে দিয়ে আসতেন বাড়ীর আঙিনার প্রাইমারী স্কুলের ব্রেন্চ এর সাথে। পড়াশোনার সাথে শক্ত বন্ধন যে তার এভাবেই!

প্রাথমিক পাস ছেলেকে এর পর ভর্তি করা হলো আতাইকুলা হাই স্কুলে। বই এর ভার হাতে করে প্রতিদিন কয়েক মাইল পথের সাথে যুদ্ধ করা। কখনো পায়ে হাটা,কখনো বা গরুর গাড়ী-বৃষ্টি ঝড় ঠান্ডা গরম দাপিয়ে তার বিদ্যা অর্জনে ছুটে চলা। স্কুল বিমুখ নূরুন্নবীর যে তখন স্কুলের প্রতিই সবচেয়ে বেশী আসক্তি তখন! 

এভাবেই ছুটে চলা। মাধ্যমিক পাস করে ঐতিহাসিক এডওয়ার্ড কলেজে উচ্চমাধ্যমিক এ ভর্তি । এর পর সোজা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক শুরু তার। বাংলা ভাষার খ্যাতিমান সব প্রাণের সাথে ভাষা নিয়ে খেলতে শেখা। ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, আবু হেনা মোস্তফা কামাল সহ হরেক পন্ডিতের তিনি ছিলেন স্নেহভাজন। 

স্নাতক শেষে এম এ সম্পন্ন করেই কর্ম জীবনে প্রবেশ। শিক্ষা জীবনের ইতি। মুহাম্মদ নূরুন্নবী হয়ে ওঠা শুরু। সহস্র মানুষের নূরুন্নবী স্যার হয়ে ওঠা শুরু। কথার যাদুকর-ভাষার শিল্পী হয়ে ওঠা শুরু। একজন সামাজিক অভিভাবক হয়ে ওঠা শুরু। 

অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নূরুন্নবীকে সমাজ পেয়েছে একাধারে শিক্ষাবিদ,ভাষা শিল্পি,সাহিত্যিক, সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আর আমি পেয়েছি একটু বেশীই বৈকি! সরাসরি শিক্ষক হিসাবেও আমি যেমনটা পেয়েছি তেমনটা পেয়েছি একজন পরম স্নেহময়ী পিতা হিসেবে। স্রোতা হিসেবে অসংখ্যবার তার মনমুগ্ধকর বক্তৃতা শুনেছি। একজন দক্ষ- সুক্ষ ভাষাবিদ হিসাবে ভাষা নিয়ে তার খেলাকরা দেখেছি। 

আমি লেখালেখি ছেড়েছি বহুদিন। পড়াশোনার চাপে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে লেখা লেখি ইস্তফা দিলাম। ভাবলাম কয়েক বছর পরই আবার কলম হাতে নেব। বাবা বলতেন আবার লিখতে, বলতেন মন খুলে যিনি লিখতে পারেন তার মানবিকতায় সুদ্ধতা আশে। একটা লেখার জন্ম একটা নতুন বোধের জন্মদেয়। একদিন কোন এক অনুষ্ঠানে আমার পরম শ্রদ্ধেও উৎপল দা (সাংবাদিক উৎপল মীর্জা) বাবাকে বলেছিলেন আমার লেখা নিয়ে। বাবা ফোনে আমাকে বলেছিলেন তখনই যেন আমি আবার লেখি কাগজ ভরে। বাবার নির্দেশ আজ ১৪ বছর পর মানতে চলেছি। আজ আমার হাতে কলম উঠেছে। বুকে প্রচন্ড ক্ষরণ আর কাপা কাপা হাতে আমি আমার মৃত বাবাকে নিয়ে লিখতে বসেছি। বাবা তুমি দেখলেনা তোমার “পাপ্পু” আবার লিখছে। 

মুক্তমনা বাবা ছিলেন স্বাধীনচেতা। বন্ধুসুলভ পিতা। পারিবারিক সদস্যদের প্রতি অনুভূতিশীল। অন্যদের বিশ্বাস, চিন্তা, চেতনাকে ম্ল্যূায়ন করতেন। নিজ বোনদের স্ব স্ব যোগ্যতা অনুযায়ী লেখাপড়া করিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয় আমৃত্যূ তাদের সাংসারিক জীবনের সকল সমস্যাকে নিজদায়িত্বে সমাধানের চেষ্টা করেছেন। একমাত্র ছোট ভাইকেও নিজ সন্তানের মত তিলে তিলে বড় করেছেন। শুধু দৈনন্দিন সংসার জীবনের প্রতি তিনি ছিলেন উদাসিন। এ দায়িত্বটা মা কেই দিয়েছিলেন তিনি। সন্তানদের দেখভাল, সাংসারিক বাজারসদাই সবই গোছাতে হতো মাকে। তিনি বলতেন মাকে -“ঘরের ক’ সন্তানকে বেশি নজর দিলে আমার শত সহস্র ছাত্র ছাত্রীর ভবিষ্যত কে গড়ে দেবে? তুমি ঘর সামলাও। আমি সাথে আছি। ”

এভাবেই সাথে থাকা বাবার। শুধু দিন শেষে মাকে দিক নির্দেশনা দিতেন বাবা। তা দিয়েই ছ’ ভাইবোনকে তিল তিল করে বড় করছেন মা। 

বাবার অবসর কাটতো বই পড়ে। বাবার বিছানা ভরা ছড়ানো থাকতো বইয়ের ভান্ডার। একটা খাতা। কলম। তার আপন সংসার। বাবার ঈদ উদযাপন ছিল সবচেয়ে উপভোগ্য। সকালে নামাজ পড়ে সবার সাথে ফোনে শুভেচ্ছা বিনিময়। তার পরই বইয়ের রাজ্যে ঢুকে যেতেন বাবা। সারা মুখটা সারাদিনই থাকতো হাসিময়।যেন ঈদের আনন্দটা বাবা বইয়ের ভেতরই খুজে পেতেন। 

আমাদের গ্রামের সব শ্রেণীর মানুষদের সাথে বাবার ছিল আত্মীক সম্পর্ক। যেভাবে যখন যাকে পেরেছেন সাহায্য করেছেন অকৃত্তিম ভাবে। 

আমাদের বাড়ীটা ছিল আত্মীয় স্বজনের কেন্দ্রস্থল। কেউ না কেউ গ্রামের অসুস্থ থাকতো প্রায়ই। সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে বাবার নির্দেশ ছিল তাদের সর্বোত্তম সেবা দেবার। মা দিতেনও তাই। আর সারা বছর কোন না কোন পরীক্ষার্থী বাসায় থাকতোই। পরম মমতায় তাদের পড়ার জায়গা আলাদা করে দিতেন বাবা। 

এমনই মহীয়ান প্রাণ ছিল বাবার। শত ব্যস্ততার মাঝেও যে এতটুকু পড়াশোনা করত চায় তাকে তার চেয়ে বেশী সুযোগ করে দিতেন সবার প্রিয় এই নূরুন্নবী স্যার। 

বাবার জনপ্রিয়তা দেখে ভাবতাম কি যাদুকরী মোহ আল্লাহ তাকে দিয়েছেন যা এত মানুষকে কাছে টানে? হিসাব কষতে কষতে উত্তরটাও পেয়েছি সহযেই। বাবার মূল মন্ত্র ছিল মিষ্টি ভাষা আর সুমিস্ট ব্যবহার। নূরুন্নবী স্যার কারো সাথে দুব্র্যবহার করেছেন এমন মানুষ পাওয়া বুঝি দুস্কর। তিনি ছিলেন হাসিমুখি সদালাপী আর সততার অমর নিদর্শন । 

বাবা ছিলেন প্রচন্ড পরিচ্ছন্ন। পোষাক আশাকে রুচিশীল। কোন ভাজ পড়া পোষাকে তিনি বাইরে যেতেন না। জুতা থাকতো সবসময় চকচকে। 

আপাদমস্তক এক রূচিশীল নূরুন্নবী স্যারের জীবন কথা শেষ হবার নয়। গোছানো বাবার গোছানো বাইওগ্রাফী গুছিয়ে বলা আমার পক্ষে দূরহ।তবুও আমার বাবার পারবারিক জীবনকে প্রকাশষ করবার চেষ্টা করেছি মাত্র। 

আজ ৫ বছর আমার বাবা বেচে নেই। এক বছর আগে এদিনে সকাল ১১ টার দিকে প্রচন্ড ব্যস্তসময় কাটাচ্ছিলাম আমি। বড় ভাইয়ের হঠাৎ ফোন। জানালো ডিসি অফিসে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ঢাকা নিতে হবে। হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করতে। ফোন রেখে যখন কি করবো তা দিকবিদিক তাকিয়ে ভেবে পাচ্ছিলাম না তখনই আবার বড় ভাইয়ের ফোন বেজে উঠল। ভাইয়া বলল আমাকে পাবনা চলে আসতে। এর পর কি করেছি আমার স্মৃতিতে তা আজ স্পষ্ট না। শুধু এখন ভাইয়ার ফোন বাজলেই সেই দুঃসহ স্মৃতি মনে পরে। আমি আতঙ্কিত হই। 

আল্লাহ মানুষকে তার পছন্দের বিষয়টাকে মর্যাদা দেন বোধ হয়। আমার প্রচন্ড সামাজিক বাবা সামাজিক পরিমন্ডলেই শেষ শ্বাসটা রেখে গেছেন। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যা দিবস তথা জাতীয় শোকদিবস পালনের প্রস্তুতিমূলক সভায় মাননীয় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ভাষনদান কালে ২০১৫ সালের ৪ঠা আগষ্ট বাবা অসুস্থবোধ করেন ও হাসপাতালে নেবার পথে তিনি মারা জান। 

পাবনাকে সেদিন কাদতে দেখেছি। কাদতে দেখেছি তার সহস্র ভক্তকে। তৃতীয় নামাজে যানাযার সময় শহরের মূলসড়কের দুমাথা আটকে প্রশাসন নূরুন্নবীস্যারকে তার অগনতি ভালবাসার মানুষদের শ্রদ্ধানিবেদন ও যানাযা নামাজের সুযোগ করে দেন। শত সহস্র মানুষের শ্রদ্ধা আর দোয়ায় স্নাত আমার বাবাকে সবাই রেখে আসেন তার চির নিদ্রার স্থান পাবনা আরিফপুর গোরস্থানে। ঘুমচ্ছেন বাবা প্রশান্তিতে। নিশ্চয়ই পরম প্রশান্তিতে। 

লেখকঃ রশীদ-উন-নবী পাপ্পু, প্রয়াত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নূরুন্নবীর কনিষ্ঠ সন্তান ও মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক। 

 

 
 
 
পাবনা নিউজ২৪.কম
আব্দুল হামিদ রোড, পাবনা-৬৬০০
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোন ০১৭৩৩৪৮৮৯৯৪ / ০১৭১১০১৬০১৮